স্টুডেন্ট এর কানাডা ভিসা পাওয়ার উপায়। কানাডায় পড়াশোনার খরচ কত।

আসসালামু আলাইকুম। বর্তমান সময়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যত মানুষ বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চায়। তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে কানাডা। আজকে আমরা কানাডার উচ্চশিক্ষার একদম সম্পূর্ণ বিষয়গুলো জানবো।

কানাডায় পড়াশোনার খরচ কত। কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসার সুবিধা অসুবিধা।

কানাডা ভিসা পাওয়ার উপায়

কানাডা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

কানাডা দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ। কানাডার রাজধানী Ottawa এবং সবচেয়ে বড় শহর Toronto. কানাডায় ইংরেজি এবং ফারসি ভাষা চলে। কানাডার মুদ্রার নাম Canadian dollar বা CAD. কানাডা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলে আর জনসংখ্যা খুবই কম ।কানাডা জনসংখ্যা 4 কোটির মত হবে । গরে প্রতি কিলোমিটারে মাত্র চারজন মানুষ বাস করে।

কানাডা পরতে কি IELTS লাগে।

কানাডা পৃথিবীর অন্যতম উন্নত একটি দেশ। এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক উন্নত। পুরো পৃথিবী থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী এখানে এপ্লাই করে। পৃথিবীর অনেক ইংলিশ স্পিকিং কান্ট্রির মধ্যে এটা একটা। তাই এখানের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় আপনি লেখাপড়া করতে হলে আপনাকে IELTS দিতে হবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রম হতে পারে। সাবজেক্ট বেদেও পার্থক্য থাকতে পারে। তবে আপনি এটা ভেবে নিতে পারেন যে আপনি যদি কানাডায় লেখাপড়া করতে চান আপনার IELTS দিতে হবে এবং ভালো একটা স্কুর থাকতে হবে।

কানাডায় কি স্কলারশিপ পাওয়া যায়?

কানাডায় লেখাপড়ার খরচ অনেক বেশি। কলেজের ফি এবং এখানে থাকা খাওয়ার খরচ অনেক বেশি। সবচেয়ে বেশি হচ্ছে কলেজের ফি। তাই সকলেই চাই এখানে একটা স্কলারশিপ নিয়ে যেতে। কানাডায় সরকারি বেসরকারি অনেক স্কলারশিপ রয়েছে। তবে বরাবর এই একই কথা এখানে প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি। তাই আপনি যদি খুব ভালো স্টুডেন্ট না হোন অথবা আপনার রেজাল্ট খুব ভালো না থাকে তাহলে এখানে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

তবে চেষ্টা করতে কোন সমস্যা নেই। এখানে যতগুলি স্কলারশিপ আছে আপনি সবগুলোতে এপ্লাই করবেন । আপনার যত ডকুমেন্ট কালেক্ট করতে পারেন সেটা করবেন। এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস যাদের বেশি থাকবে তাদের স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। তাই আপনার এরকম যত সার্টিফিকেট আছে আবেদন করার সময় এগুলো এটাচ করে নেবেন।

কানাডায় লেখাপড়া করার খরচ কি রকম?

আগেই বলেছি কানাডা পৃথিবীর উন্নত একটা দেশ এবং এদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক উন্নত। তাই আপনি যদি এখানে লেখাপড়া করতে চান আপনাকে মোটামুটি ভালো একটা ফি পেমেন্ট করতে হবে। কলেজ এবং সাবজেক্ট অনুযায়ী সেটা আলাদা হবে। তবে মোটামুটি একটা ধারণা যদি দেওয়ার চেষ্টা করি আপনার এইখানে প্রতি বছর ১০ লাখ থেকে 15 -২০ লাখ বাংলাদেশী টাকা আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে। অনেক কলেজ আছে যেগুলোতে পুরো এক বছরের টাকা পেমেন্ট করে তারপর যাওয়া যায়  আবার কিছু কলেজ আছে যেখানে অর্ধেক বছরে টাকা পেমেন্ট করেও যাওয়া যায়।

এখানে আরো একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে আপনি যদি কানাডায় লেখাপড়া করতে যেতে চান আপনাকে অবশ্যই ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে। আপনার ব্যাংকে মিনিমাম ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা থাকতে হবে। আপনার অথবা আপনার পরিবারের যে কোন একজনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখালেই হবে

কানাডায় থাকা খাওয়ার খরচ কি রকম?

কানাডায় থাকা খাওয়ার খরচ অনেক বেশি। আপনি যদি একটা রুম নিয়ে থাকতে চান আপনার কমপক্ষে মাসে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে আপনি যদি রুম শেয়ার করে থাকেন সেক্ষেত্রে এই খরচটা অর্ধেকের মত হয়ে যাবে। এইখানে থাকার জন্য মাসে আপনার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মত খরচ হতে পারে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে আপনি যদি উন্নত সিটিতে থাকেন তাহলে খরচ বেশি হবে। আর খাওয়ার খরচ ব্যক্তি অনুযায়ী অবশ্যই আলাদা হয়। তবে এটা আপনি ভেবে নিতে পারেন যে কানাডায় থাকা খাওয়ার জন্য আপনাকে ভালো একটা এমাউন্ট খরচ করতে হবে।

পড়াশোনার পাশাপাশি কি পার্ট টাইম  জব পাওয়া যায়।

কানাডায় যারা লেখাপড়া করে তাদের বেশিরভাগই পার্ট টাইম জব করে। কানাডা সরকার আপনাকে প্রতি সপ্তায় 20 ঘন্টা কাজ করার অনুমতি দেয়। তবে আপনি যেই বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করবেন তার মাঝখানে যদি গ্যাপ থাকে। অর্থাৎ আপনি যে বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করবেন দুইটা সেশন পর যদি সেখানে এক দুই মাসের বন্ধ থাকে। ওই সময় আপনি ফুলটাইম কাজ করতে পারবেন। যদি আপনি একজন পরিশ্রমী মানুষ হন এবং যদি ভাগ্য আপনার সহায় হয় তাহলে মোটামুটি আপনার সব খরচ আপনি পার্ট টাইম জব করে কভার করতে পারবেন। তবে এরকম আশা করে আপনি কানাডায় চলে যাবেন না। অবশ্যই আপনাকে সাপোর্ট করার মত মানুষ যদি থাকে তাহলেই আপনি কানাডে যাবেন।

কানাডায় কাদের যাওয়া উচিৎ কাদের উচিৎ না।

যদি আপনাদের পারিবারিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয় তাহলে আপনি কানাডায় যেতে পারেন। তবে আপনাদের অর্থনৈতিক অবস্থা যদি খুব একটা ভালো না হয় তাহলে কানাডা আপনাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। আপনি যদি বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি কম করেছে অনেক ভালো ভালো দেশ আছে যেখানে উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবেন। আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হলেই আপনি উন্নত দেশগুলোতে ট্রাই করবেন। যাতে কখনো  যদি সেখানে গিয়ে জব না পান কিংবা ইনকাম করতে না পারেন তাহলে আপনার পরিবার আপনাকে চালিয়ে নিতে পারে।

তাছাড়া কানাডায় যেহেতু প্রতিযোগিতা অনেক বেশি তাই সেখানে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা ও কম। আপনি কানাডায় না গিয়ে যদি অন্য দেশে যান সে ক্ষেত্রে হয়তো বা আপনি একটা স্কলারশিপ পেয়ে যেতে পারেন। সবকিছুর পরেও কানাডা মানুষের চয়েজের প্রথম দিকে থাকে। কারণ অনেক বেশি শান্তিপ্রিয় একটা দেশ। এখন সিদ্ধান্ত আপনার আপনি কোথায় যাবেন।

শেষ কথাঃ কানাডায় লেখাপড়া করার পর আপনি সেখানে জব করার জন্য সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি শিক্ষালোন নিয়ে সেখানে লেখাপড়া করেন পরবর্তীতে কাজ করে সেটা শোধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। কানাডা অনেক বড় একটা দেশ এবং এই দেশে কাজের বেতন অনেক বেশি। তাই আপনি ভেবে নিতে পারেন কানাডা অথবা ইউরোপের উন্নত কোন দেশে আপনি লেখাপড়া শেষে কাজ পেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে একই কথা আপনি কোন কিছুই আগে থেকে ভেবে নিয়ে কাজ করবেন না অবশ্যই যথেষ্ট সাপোর্ট নিয়ে তারপর কানাডায় যাবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment